নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
সুদুর সৌদি আরবে থেকেও স্বামী নামে এক অর্থলোভীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্ত্র হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলা আক্তার মিতু নামে এক মেয়ে। গত বছরের ১৩/১০/২২ইং ঢাকার কোতয়ালী থানা এলাকায় এক কাজি অফিসে আরিফুল ইসলামের সাথে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়।
সুত্রে জানা যায়,চাদঁপুরের বুডুন্ডা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাঝিগাঝা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে আরিফুল ইসলাম এবং ফতুল্লার ভুইগড় শিবরামপুর এলাকার আসলাম চৌধুরীর মেয়ে নীলা আক্তার মিতু এক সাথে সৌদি আরবে থেকে কাজ করতেন। সেসুবাদে তাদের উভয়ের মাঝে সুসর্ম্পক গড়ে উঠে। গত বছরে তারা উভয়ে দেশে এসে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের কিছুদিন পর উভয়ে সৌদি আরবে চলে যায়। সেখানে পৌছেই স্বামী আরিফুল ইসলামের ভিন্নরুপ প্রকাশ পায়। স্ত্রী মিতুর যাবতীয় আয়ের টাকাগুলো কজ¦ায় নিয়ে নেয় অর্থলোভী আরিফুল। শুধু তাই নয় মাস শেষে যে বেতনের টাকা পায় মিতু তাও কেড়ে নিয়ে যায় স্বামী আরিফুল। সেখানে একাকী হয়ে পড়া মিতুকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে স্বামী আরিফুলের ফুফাতো ভাই আলামিন,বন্ধু হৃদয়,মামা ফারুক। আরিফুলের পক্ষালম্বন করে তারা সকলেই অনেকটা চাপের মুখে রেখেছে মিতুকে। মিতুর সবকিছু কেড়ে নিয়ে গত কিছুদিন পুর্বে আরিফুল তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমনকি মিতুর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও ব্লাক লিষ্টে ফেলে রেখেছে আরিফুল।
সৌদি আরব থেকে মুঠোফোনে ভুক্তভোগী নীলা আক্তার মিতু জানান,বিয়ের আগ পর্যন্ত আরিফুল আমার সাথে ভাল ব্যবহার করেছে। সেখানে সর্ম্পকের পর দেশে এসে বিয়ে করার পর পুনরায় উভয়ে সৌদি আরব চলে আসি। এখানে আসার পর থেকেই আরিফুলের স্বভাব কিছুটা পরিবর্তনে চলে আসে। সকল সময় ঝগড়া করা ছাড়াও কারনে-অকারনে আমার গায়ে হাত তোলাসহ বিভিন্নভাবে প্রাননাশের হুমকী-ধামকী দিয়ে আসছে। এখানে আমি একা হয়ে যাওয়ার ফলে স্বামী আরিফুল অনেকটা বেপরোয়া হয়ে পড়ে। তার সাথে যুক্ত রয়েছে তার মামা,ফুফাতো ভাই এবং বন্ধু। তাদের চারজনের অত্যাচারে আমি এখানে অসহায়ত্বের মত দিনানিপাত করছি। সে আরও বলেন,আরিফুল বর্তমানে সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাস করছে। এখানে তার আকামা ( ২৪৪৪১৯৫৮৭৫) এবং পাসপোর্ট নং ( ই কে ০২১৫৪৬২৮বি-জি-ডি ৯৩০১১২৪এম২৭০২১৪৬) পুরোটাই অবৈধ ঘোষনা করেছে সৌদি সরকার। সে আরো বলেন,পালিয়ে থেকেও এখানে থাকা তার স্বজনদের মাধ্যমে আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকী প্রদান করছেন। সে আরও বলেন,আমার মা-বাবা কেউ দুনিয়াতে বেঁচে নেই। ভেবেছিলাম আরিফুলকে বিয়ের পর প্রবাসে কিছুদিন থাকার পর দেশের এসে আরিফুলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সেখানে বসবাস করবো এবং তার বাবা-মাকে নিজের বাবা-মায়ের আসনে রেখে সংসার জীবন শুরু করবো। কিন্তু আরিফুল যে এতটা অর্থলোভী তা কখনও কল্পনা করতে পারিনি।
আমি বাংলাদেশ ও সৌদির এম্বেসীর নিকট আকুল আবেদন করছি যে,আমার বিষয়টি আমলে নিয়ে আমাকে ন্যায় বিচার পেতে সার্বিক সহযোগিতা করা কামনা করছি।
Leave a Reply